30/09/2022

রুহ কাকে বলে? রুহ কি দিয়ে সৃষ্টি? ও রুহ রহস্য এর উত্তর।

রুহ কাকে বলে? রুহ কি দিয়ে সৃষ্টি? ও রুহ রহস্য এর উত্তর।

ইসলাম ধর্মে আত্মাকে রুহ বলে। “রুহ” একটি আরবি শব্দ। তবে বাংলাদেশের মুসলমানরা আত্মাকে বাংলাতে আত্মা বা জান বলে অভিহিত করে।

তারা তোমাকে রুহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বলে দাও, রুহ আমার রবের হুকুমঘটিত একটি বিষয়। কিন্তু তোমরা এ ব্যাপারে সামান্য জ্ঞানই লাভ করেছ। [সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৮৫ (প্রথম পর্ব)]

রুহের তাত্ত্বিক আলোচনা: পবিত্র কোরআনে অন্তত ২৩ বার ‘রুহ’ শব্দ এসেছে। বাংলা ভাষায় এর শাব্দিক অর্থ হলো প্রাণ বা আত্মা। কোরআনে রুহ শব্দ প্রধানত তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

এক:- ‘রুহ’ হলো সেই অলৌকিক বস্তু, যা মানুষের ভেতর ফুঁ দিয়ে প্রাণের সঞ্চার করা হয়। মানুষকে উজ্জীবিত করা হয়।অর্থাৎ এটি একটি স্রষ্টার হুকুম, এই হুকুমটি যতদিন জারি থাকবে ততদিন মানুষের শরীরে প্রাণের সঞ্চার থাকবে।

দুই:- রুহ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে জিবরাইল (আ.)-এর ক্ষেত্রে। অর্থাৎ কোরআনের কোনো কোনো স্থানে রুহ মানে জিবরাইল (আ.) কে বোঝানো হয়েছে। যেমন:  ইরশাদ হয়েছে, قُلۡ نَزَّلَہٗ رُوۡحُ الۡقُدُسِ مِنۡ رَّبِّکَ بِالۡحَقِّ لِیُـثَبِّتَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ ہُدًی وَّ بُشۡرٰی لِلۡمُسۡلِمِیۡنَ ‘বলে দাও, তোমার রবের কাছ থেকে রুহুল কুদুস [জিবরাইল (আ.)] সত্যসহ কোরআন নাজিল করে…।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১০২)

তিন:- কখনো কখনো রুহ শব্দ এসেছে কোরআন ও ওহি বোঝানোর ক্ষেত্রে। 

ইরশাদ হয়েছে, وَ کَذٰلِکَ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡکَ رُوۡحًا مِّنۡ اَمۡرِنَا ؕ مَا کُنۡتَ تَدۡرِیۡ مَا الۡکِتٰبُ وَ لَا الۡاِیۡمَانُ ‘এভাবেই আমি তোমার প্রতি পাঠিয়েছি রুহ তথা আমার নির্দেশ। তুমি তো জানতে না কিতাব কী এবং ঈমান কী..!’ (সুরা : শুরা, আয়াত : ৫২)

রুহ কি দিয়ে সৃষ্টি?:- রুহ এমন এক অশরীরী বস্তু, যা কারো দৃষ্টির সীমানায় আসেনা। কিন্তু প্রত্যেক প্রাণীর শক্তি ও সামর্থ্য চলাফেরা কথাবার্তা সবকিছুই এই রুহের মধ্যেই লুক্কায়িত অর্থাৎ রুহ মূল শক্তি। এর প্রকৃত রূপ কেউ জানে না। ইহুদি পণ্ডিতরা একবার নবী করিম (সা.)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিল। তখনই উপরে বর্ণিত আয়াত অবতীর্ণ হয়। (বুখারি, সুরা বনি ইসরাঈলের তাফসির)

প্রশ্নকারীরা জানতে চেয়েছিল রুহ এই জিনিসটা আসলে কী বা কেমন? কোরআনে এ প্রশ্নের সরাসরি তাত্ত্বিক জবাব দেওয়া হয়নি। শুধু এতটুকু বলে দেওয়া হয়েছে যে রুহ বস্তুগত কিংবা অনুভব করার কোনো জিনিস নয় যে তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারবে রুহ কেমন বা কি দিয়ে সৃষ্টি। বরং রুহ সম্পূর্ণ অবস্তুগত একটি জিনিস, যা মহান আল্লাহর নির্দেশঘটিত একটি বিষয়। রুহের হকিকত বেশির ভাগ মানুষের উপলব্ধিক্ষমতার ঊর্ধ্বে। এই বিশ্বভুবনের সত্যাসত্য সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান খুবই সীমিত। উপলব্ধিক্ষমতাও খুবই সামান্য।

রুহের হাকিকত:- রুহের হকিকত নিয়ে মানবসমাজে বহু মতবিরোধ আছে। রুহ অতি সূক্ষ্ম দৃষ্টির বাহিরে একটি প্রাণী, যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে যেভাবে রক্ত, অথবা গোলাপ ফুলের মধ্যে পানি এবং জলপাইয়ের মধ্যে তেল বিচরণ করে সেভাবে রুহ শরীরের ভিতর বিচরণ করে। রুহের মাধ্যমেই দেহ জীবিত থাকে। একটি দেহের মূল চালিকাশক্তি রুহ।

রুহের ঘর হচ্ছে দেহ। যখন দেহ থেকে রুহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তখন দেহ থেকে প্রাণও চলে যায়। রুহ সৃষ্ট বস্তু। তবে মানব শরীরের মৃত্যুর কারণে রুহ মৃত্যুবরণ করে না। রুহের দেহত্যাগ এবং দেহ থেকে রুহের বের হয়ে যাওয়াই নামই মৃত্যু। তবে রুহ নিঃশেষ হয় না, বরং দেহ ধ্বংস হওয়ার পরও তা অবশিষ্ট থেকে যায়। এই রুহ হয়তো জান্নাতে অথবা জাহান্নামে অবস্থান করে ।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published.