25/09/2022
ইসলামী বক্তৃতা শুরু করার নিয়ম

ইসলামী ‘বক্তৃতা দেয়ার কৌশল’ বক্তৃতা শিক্ষা/ Boktita Dewar Kousol

ইসলামী ‘বক্তৃতা দেয়ার কৌশল’ বক্তৃতা শিক্ষা   —

আমাদের অনেকেরই স্বপ্ন আছে একজন ইসলামী আলোচক হওয়ার, মাঠে ময়দানে মানুষের সামনে বক্তৃতা দেওয়ার, এবং একজন দায়ী ইলাল্লাহ হওয়ার। 

এখন ইসলামী আলোচক হতে হলে যেমনভাবে আপনার ইসলামিক বিষয় এর উপর জ্ঞানী হতে হবে। ঠিক তেমনভাবে ‘ বক্তৃতা দেওয়ার কৌশল ‘ সম্বন্ধে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় ফলো করতে হবে। যা আপনাকে একজন গ্রহণযোগ্য আলোচক হওয়ার জন্য সহায়তা করবে। এখন আমরা সেই ব্যাপারে কিছু বিষয় তুলে ধরব।

(১) বক্তৃতা দেয়ার কৌশল প্রথম ধাপ “বিষয় সিলেকশন”

  • প্রাথমিক পর্যায়ে যারা সভা-সেমিনার অথবা ইসলামী মাহফিল আলোচনা বা বক্তৃতা করবেন তাদের ক্ষেত্রে উচিত নির্দিষ্ট একটি বিষয় সিলেক্ট করা। যদি মাহফিল কমিটি আপনাকে কোন নির্দিষ্ট বিষয় দেয় তাহলে সেই বিষয়টি সিলেকশন করবেন। যদি সেই বিষয়ের উপর আপনার তেমন ভাল অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে আপনি কৌশলে বিষয়টি তাদের কাছ থেকে চেঞ্জ করে নিবেন। কমিটি যদি নির্দিষ্ট কোন বিষয় না দেয় তাহলে আপনি আপনার পছন্দসই কোন ইসলামী বিষয় বেছে নিবেন। এবং এমন একটি বিষয় বেছে নিবেন যে বিষয়টির উপরে মানুষের আগ্রহ রয়েছে। 

(২) অধ্যায়ন : 

  • বিষয় সিলেকশনের পর অধ্যায়ন শুরু করে দিবেন, মনে রাখবেন মানুষের সামনে আলোচনা করতে আপনাকে প্রচুর পরিমাণে অধ্যায়ন করতে হবে, কেননা আপনি যদি কোন ভুল তথ্য দেন তাহলে শ্রোতা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে ঠিক তেমনি আপনার নিজের ইমেজ নষ্ট হবে। শ্রোতার সামনে বক্তৃতা করার অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকেই বিষয়টি সুন্দর ভাবে নিজের নখদর্পণে রাখবেন। মুখস্থ বিদ্যার ক্ষেত্রে মাথার মেমোরিতে পূর্ণাঙ্গ লোড হতে কিছু সময় দরকার। যদি দুই তিন দিন আগে মোটামুটি প্র্যাকটিস করে ময়দানে ওয়াজ শুরু করেন তাহলে ওয়াজের ময়দানে আপনি অনেক বিষয় ভুলে যেতে পারেন, তখন নিজের কাছে ইতস্ত লাগবে। এবং শ্রোতাদের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা হারাবেন।

(৩) সুন্দর উপস্থাপন : 

  • আলোচনার মূল পর্বে যাওয়ার আগে উপস্থাপনা সুন্দর হতে হবে, এক্ষেত্রে কিছু’ উপস্থাপনার প্র্যাকটিস’ করতে পারেন ।
  • আপনার সাবলীল এবং সুন্দর উপস্থাপনায় বলে দিবে আপনি কেমন ব্যক্তিত্বের। উপস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রথম পর্যায়ে আল্লাহ‌র প্রশংসা ও তার হাবিবের উপরে দরুদ পাঠ করে- উপস্থিত সম্মানিত ওলামায়ে কেরাম, আয়োজক কমিটি , এবং সামনে উপবিষ্ট শ্রোতাদের সালাম প্রদর্শন। এরপরে আয়োজনের স্থান, আয়োজকদের ধন্যবাদ সহ নিজের মতো করে গুছিয়ে কিছু কথা বলে মূল আলোচনা শুরু করবেন

(৪) দলিল ভিত্তিক আলোচনা: 

  • এখনকার মানুষ অনেক আপডেট, তারা কোরআন-হাদিসের কোন বিষয়ে শুনলেই তার দলিল এবং সূত্র খুঁজে। সেজন্য আপনাকে কোরআনের আয়াতের রেফারেন্স এবং হাদিসের রেফারেন্স দিয়ে কথা বলতে হবে। আপনি যে বিষয়ের উপর বক্তৃতা করবেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সেই বিষয়ের উপর অন্তত তিন থেকে চারটি কোরআনের আয়াত, দুই থেকে তিনটি আরবী এবারত সহ হাদিস আনতে হবে। সেই সাথে কোরআন শরীফের বিশ্বস্ত তাফসীর এবং হাদীসের ব্যাখ্যা নিয়ে আসতে হবে। এরপরে উল্লিখিত বিষয় সংশ্লিষ্ট ধারাবাহিক আলোচনা করবেন নিজের মতো গুছিয়ে।

(৫) বক্তৃতা দেয়ার কৌশল পঞ্চম কৌশল বাচনভঙ্গি: 

  • ওয়াজের ময়দানে শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ ও মনোযোগী করে তোলার ব্যাপারে বক্তার বাচনভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি যদি স্বাভাবিকভাবে হাত নাড়াচাড়া না করে মনমরা হয়ে শুধু একের পর এক আলোচনা করে যান, আপনি যত জ্ঞানী হোন না কেন শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন না।
  • আপনার প্রতিটি কথার ক্ষেত্রে সেই বিষয়ের সামঞ্জস্যপূর্ণ বাচনভঙ্গি দেখাতে হবে, সাবলীল ভাবে হাত নাড়াচাড়া করতে হবে। মাঝে মাঝে শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য মুচকি হাসনো যেতে পারে। মনে রাখতে হবে আপনি যে বিষয়টি বলতে চান সেই বিষয়টি যেন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেই অর্ধেক প্রকাশ পায়। তাহলে শ্রোতাদের মনোযোগ সৃষ্টি হবে এবং তারা আপনার ওয়াজ বুঝতে পারবে।

(৬) নির্দিষ্ট আলোচনায় স্থির থাকা: 

  • আপনি যখন নতুন বক্তা হবেন তখন আপনার উচিত থাকবে আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে স্থির থাকা, নির্দিষ্ট টপিক এর বাইরে গিয়ে কথা বললে কথার মাধুর্যতা নষ্ট হতে পারে। এবং দেখা যাবে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলার কারনে আপনি আপনার নির্দিষ্ট আলোচনার বিষয়টি শেষ করতে পারবেন না। তাই টপিকের বাহিরে না যাওয়াই উত্তম।

(৭) বক্তৃতা দেয়ার কৌশল সপ্তম কৌশল উচ্চারণ : 

  • ওয়াজ মাহফিল থেকে শুরু করে সভা-সেমিনার সব জায়গাতেই শব্দ উচ্চারণের ব্যাপারে বক্তার সতর্ক হওয়া উচিত। আপনার শব্দ উচ্চারণ গুলো হতে হবে মাধুর্যপূর্ণ এবং সাবলীল যাতে শ্রোতাদের বুঝতে কষ্ট না হয়। স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে হবে কথার ভিতরে কোন রকম জড়তা রাখা যাবে না। আ’ উ’ এ’ এইসব শব্দ কথার মাঝ থেকে পরিত্যাগ করতে হবে। 

(৮) একই শব্দ বারবার না বলা: 

  • আমরা অনেকেই দেখা যায় একই শব্দ বারবার রিপিট করি, এতে করে অনেক সময় শ্রোতারা বিরক্ত বোধ করতে পারেন। তাই এই বিষয়টি বর্জন করতে হবে।

(৯) সহজবোধ্য শব্দ বলা: 

  • মাহফিলে যে সমস্ত শ্রোতারা আসে তারা অতি কঠিন শব্দ কিংবা সাহিত্যিক শব্দ খুবই কম বোঝে। তাই আপনি যত পারেন কথার ভিতরে সুন্দর এবং সাবলীল,সহজ শব্দ দিয়ে কথা বলবেন। 

(১০) নরম এবং গরম: 

  • নরম এবং গরম বলতে বোঝানো হচ্ছে, বক্তৃতার যে স্থানে আবেগ‌ ,দুঃখ, হতাশা বা স্বাভাবিক আলোচনা থাকবে সেখানে নরম স্বরে কোমল কন্ঠে আলোচনা করতে হবে। আবার বক্তৃতার যে স্থানে প্রতিবাদ, পরিতাপ, বা যে স্থানে মনে হবে উচ্চ আওয়াজ দিয়ে কথা বলা দরকার সেখানে উচ্চ আওয়াজ দিয়েই কথা বলতে হবে। এগুলো সুন্দরভাবে মেনটেন করতে হবে। গরমের জায়গায় নরম আবার নরমের জায়গায় গরম স্বরে বললে আলোচনার মাধুর্যতা নষ্ট হবে।

(১১) নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা: 

  • আয়োজকবৃন্দ আপনাকে যতটুকু সময় দিবে আপনি ততটুকু সময়ের ভিতর আপনার সম্পূর্ণ আলোচনা শেষ করার চেষ্টা করবেন, আপনি যদি শেষ নাও করতে পারেন তাহলেও আপনার উচিত নয় অতিরিক্ত সময় নষ্ট করা। এতে করে আয়োজকরা বিরক্ত বোধ করতে পারেন কেননা তাদের সময়গুলো নির্ধারিত।

ইনশাআল্লাহ উপরের এই বিষয়গুলো সুন্দরভাবে ফলো করলে, প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচকদের জন্য খুবই উত্তম হবে। ‘বক্তৃতা শেখার কৌশল’ ‘বক্তৃতা শিক্ষা’ ‘সুন্দর বক্তৃতাদানের উপায়’ সুন্দর ‘উপস্থাপন শিক্ষা’ ‘ওয়াজ শিক্ষা’ ‘ওয়াজ করার কৌশল’  ‘বক্তৃতা দেয়ার কৌশল‘ ‘বক্তৃতা প্রশিক্ষণ’ ‘বক্তৃতার গুরুত্ব’ 

এসব বিষয়ে প্রতিটি বক্তা সফলতা লাভ করুক।

লেখক: ইসলামী দর্পণ টিম।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published.