25/09/2022
রাসূল (সা.) এর মুজিজা

রাসূল (সা.) এর মুজিজা- বিস্ময়কর ২ টি ঘটনা।

রাসূল (সা.) এর মুজিজা- বিস্ময়কর ২ টি ঘটনা।-

এই পৃথিবীতে আম্বিয়ায়ে কেরামদের কে পাঠানো হয়েছে, মানুষকে হেদায়েতের পথ দেখাতে। সত্য ধর্মের দাওয়াত দিতে। আর এসব কাজ করতে গিয়ে, অনেক নবী-রাসূলদের কে আল্লাহ পাক -মুজিজার নেয়ামত দান করেছেন। আমাদের রাসুল ( স.) এর গোটা জিন্দেগী মুজিজায়ে ভরপুর। আল্লাহর হাবিব এর জীবনে উল্লেখযোগ্য অনেক ‘অলৌকিক মুজিজার’ মধ্যে দুইটি মোজেজা নিয়ে আলোচনা করব।

  • ঘটনা :১
  • রাসুল এর (সা.)-এর উল্লেখযোগ্য অলৌকিক ঘটনা ‘রদ্দে শামস’ হলো ডুবে যাওয়া সূর্যকে ফিরিয়ে আনয়ন করা।
  • হজরত আসমা বিনতে ওমায়স (রা.) বলেন একবার নবী করিম (সা.) খায়বারের কাছে ‘সাহবা’ নামক উপত্যাকায় ছিলেন। তার মাথা মোবারক হজরত আলী (রা.) কোলে অর্থাৎ উরুতে রেখে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। কিন্তু তখনো হযরত আলী আসরের নামাজ পরেননি। ঠিক ঐ মুহূর্তে আল্লাহর হাবিবের প্রতি ওহি নাজিল শুরু হয়ে গেল।
    শেষ পর্যন্ত সূর্য ডুবে গেল। রাসূল (সা.) বিশ্রাম শেষে উঠে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা কি আসরের নামাজ পড়েছো ?’ হজরত আলী (রা.) বললেন, ‘না’ ইয়া রাসুল আল্লাহ!। ঠিক তখনই রসুলুল্লাহ (সা.) আকাশের দিকে হাত উত্তোলন করে দোয়া করতে শুরু করলেন ‘হে আল্লাহ! আলী আপনার হাবিবের অনুগত ছিল, আপনার রাসুল বিশ্রাম নেওয়ার ফলে সে নামাজ পড়তে পারিনি। সূর্য আবার ফিরিয়ে দিন, যাতে সে আসরের নামাজ সঠিক ভাবে আদায় করতে পারে।
    অতঃপর কী ‘বিস্ময়কর একটি ঘটনা’ ঘটল! ডুবে যাওয়া সূর্যটি পুনরায় চলে আসলো আসরের ওয়াক্তে, এবং হযরত আলী (রা.) সঠিক ওয়াক্তে আসরের নামাজ আদায় করে নিলেন।

– শায়খ জালাল উদ্দীন সুয়ুতী (রহ.) বর্ণিত হাদিসটি বিশুদ্ধ বলেছেন।

  • ঘটনা :২
  • রাসূল (সা.) মিরাজ থেকে ফিরে এসে কুরাইশদের সম্মুখে, মহান রবের সান্নিধ্য লাভ এবং সেই অলৌকিক ভ্রমণকাহিনী ও মিরাজের সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করেছিলেন। কুরাইশরা সেই ঘটনার সত্যতা পরীক্ষা করার জন্য বায়তুল মোকাদ্দাসের বিভিন্ন নিদর্শন সম্পর্কে রাসুল সা. কে প্রশ্ন করেছিল, আল্লাহর নবী যথাযথভাবে বায়তুল মোকাদ্দাসের সেসব নিদর্শন এর প্রশ্নের উত্তর দেন।
    কুরাইশরা আরো জিজ্ঞেস করেছিল বাণিজ্য উপলক্ষে সিরিয়ার দিকে যে কাফেলা গমন করেছিল, তারা কখন মক্কায় প্রত্যাবর্তন করবে? জানতে চান নবীজির নিকট-
    অতঃপর মহানবী (সা.) উত্তর দিয়েছিলেন,তারা বুধবার মক্কায় এসে পৌঁছাবে।’ বুধবার আস্তে আস্তে অতিক্রম হতে শুরু করল, দিনের পড়ন্ত বিকেলও অতিক্রম হতে চলল। এমনকি সন্ধ্যা হওয়ার উপক্রম হল। কিন্তু কাফেলা মক্কায় এসে পৌঁছেনি। তাই মক্কার কাফির মুশরিকরা আল্লাহর হাবিবের নবুয়তের সত্যতা সম্পর্কে কিলোকাল করতে শুরু করে দিল। তারা বলে বেড়াতে লাগলো মোহাম্মদ ( সা.) এর কথা সত্যি হবে না, ঠিক এমতাবস্থায় রসুলুল্লাহ (সা.) হাত তুলে দোয়া করলেন, তখন আল্লাহপাক রব্বুল আলামিন সূর্যের গতিরোধ করলেন অর্থাৎ সন্ধ্যা হতে দিলেন না। কাফেলা মক্কায় আসার আগ পর্যন্ত সূর্য থেমে ছিল। আল্লাহু আকবার! সুবহানআল্লাহ।
  • আল্লাহ পাক তাঁর হাবিবকে কত অলৌকিক মুজিজা দান করেছিল চিন্তা করে দেখুন!
    আমরা সেই নবীজির উম্মত। আসুন আমরা আল্লাহকে ভালোবাসি রসুল (সা.) কে ভালোবাসি।
    এবং আজ থেকে শুরু করে দেই ‘রাসুল (সা.) এর অনুসরণ’ ।
Share

Leave a Reply

Your email address will not be published.