24/09/2022
জান্নাতের পরিচয়

কোরআনের পাতা থেকে জান্নাত এর পরিচয়। Quran Ar Pata theke Jannater Porichoy

কোরআনের পাতা থেকে জান্নাত এর পরিচয়। Quran Ar Pata theke Jannater Porichoy

  • জান্নাত এর পরিচয়:-

 জান্নাত শব্দটির অর্থ হলঃ উদ্যান, বাগান, বাগিচা। ফারসী ভাষায় বেহেশত বলা হয়।

মহান আল্লাহ বান্দার উপর খুশি হয়ে প্রতিদান স্বরূপ যা নিজ অনুগত বান্দার মৃত্যুর পর পরকালে প্রস্তুত রেখেছেন, সেটাই হলো জান্নাত।

জান্নাত মানেই যে শুধু বৃক্ষবিশিষ্ট বাগান‌ তা কিন্তু নয়; বরং তাতে থাকবে বসবাস করার অট্টালিকা, ঝরনা, পাহাড়, বিভিন্ন পানীয়র নদী-নালা এবং চরম সুখ-সামগ্রী, যা মানুষ কল্পনাও করতে পারে না। সেখানে দুঃখের কোন লেস থাকবেনা। এমন নির্মল শান্তি থাকবে, যাতে কোন প্রকার অশান্তির ,অরাজকতা ,বিশৃঙ্খলা ও মলিনতা নেই। এত নিয়ামত ও সম্পদ থাকবে যা মানুষের কল্পনার ঊর্ধ্বে।

 রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আমি আমার অনুগত বান্দাদের জন্য (জান্নাতে) এমন জিনিস প্রস্তুত করে রেখেছি, যা কোন চক্ষু দর্শন করেনি, কোন কর্ণ শ্রবণ করেনি এবং যার সম্পর্কে কোন মানুষের মনে ধারণাও জন্মেনি! তোমরা চাইলে এ আয়াতটি পাঠ করতে পার—

فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّا أُخْفِيَ لَهُم مِّن قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ

যার অর্থ, “কেউই জানে না তার জন্য তার কৃতকর্মের বিনিময় স্বরূপ নয়ন-প্রীতিকর কি পুরস্কার লুকিয়ে রাখা হয়েছে।” (সাজদাহঃ ১৭ আয়াত,( বুখারী-মুসলিম)

  • জান্নাত এর বিলাসবহুল সুখের ছোট্ট একটি ধারণা:

পৃথিবীর বুকে কত বিলাসপ্রিয় ধনকুবেররা বিলাসবহুল বাগান ও বাড়ি- গাড়ী বানিয়ে বসবাস করে, কত রকম আরাম-আয়েশ করে থাকে, কিন্তু সেসব কিছু জান্নাতের তুলনায় নিতান্তই ক্ষুদ্র।

জান্নাত এর সে সুখ-সামগ্রী দেখে দুনিয়ার সবচেয়ে দুঃখী,অভাবগ্রস্ত মানুষটিও সমস্ত দুঃখের কথা নিমেষেই ভুলে যাবে। 

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “কিয়ামত দিবশে জাহান্নামীদের মধ্য হতে এমন এক লোককে নিয়ে আসা হবে, যে ব্যক্তি দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী ও বিলাসী মানুষ ছিল। অতঃপর তাকে জাহান্নামে একবার ডুবানো হবে, তারপর তাকে প্রশ্ন করা হবে, হে আদম সন্তান! তুমি কি কখনো ভাল জিনিস( অর্থাৎ সুখ-সামগ্রী, ভোগবিলাস আরাম-আয়েশ) দেখেছ? তোমার নিকটে কি কখনো সুখ-সামগ্রী এসেছে? সে বলবে, না!! আল্লাহর কসম! হে প্রভু! অর্থাৎ লোকটি জাহান্নামের নিদারুণ কষ্টে দুনিয়ার সমস্ত সুখ শান্তি,আরম,আয়েশ ভুলে যাবে।

এরপর জান্নাতীদের মধ্য হতে এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, যে দুনিয়ার সবথেকে বেশি দুঃখ কষ্টের ছিল। তাকে জান্নাতে (মাত্র একবার) চুবানোর পর প্রশ্ন করা হবে, হে আদম সন্তান?! তুমি কি পৃথিবীতে কখনো কষ্ট দেখছ? তোমার উপরে কি কখনো বিপদ গেছে? সে বলবে, না!! আল্লাহর কসম! আমার উপর কোনদিন কষ্ট আসেনি, দুঃখের ছোঁয়া লাগেনি এবং আমি কখনো কোন বিপদও দেখিনি। অর্থাৎ জান্নাতের অতুলনীয় সুখে সে দুনিয়াতে যাবতীয় দুঃখ-কষ্ট ভুলে যাবে। (মুসলিম)

চিন্তা করুন প্রিয় ঈমানদার ভাই‌ ও বোনেরা!  তাহলে জান্নাতে কতটা সুখ শান্তি, অনিন্দ্য ভোগবিলাস আল্লাহ মুমিনদের জন্য রেখে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে জাহান্নামীদের জন্য কত নিকৃষ্ট আবাসস্থল করে রেখেছেন। তাই দুনিয়াতে খুব দুঃখে কষ্টে পড়লে হতাশ হওয়ার কিছু নেই, হয়তো আল্লাহ পরকালে আপনার জন্য উত্তম কিছু রেখেছেন। 

  •  জান্নাত সম্পর্কিত কয়েকটি কোরআনের আয়াত: 

আর সে কারণেই বেহেশতে স্থান লাভ করা এমন সৌভাগ্যে ও চরম উন্নতির ব্যাপার, যার পর কোন সৌভাগ্য নেই আর কোন উন্নতি নেই। মহান আল্লাহর ভাষায় সেটা কে বলে সফলতা । তিনি বলেন,

كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ۗ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۖ فَمَن زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ ۗ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ

অর্থাৎ, প্রত্যেকটি জীব মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর কিয়ামতের দিনই তোমাদের কর্মের হিসাব পূর্ণমাত্রায় প্রদান করা হবে। সুতরাং যাকে আগুন ( জাহান্নাম ) থেকে দুরে রাখা হবে এবং (যে) বেহেশতে প্রবেশলাভ করবে, সেই হবে সফলকাম। আর পৃথিবীর জীবন ছলনাময় ভােগ ব্যতীত কিছুই নয়। (আলে ইমরানঃ ১৮৫)

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে আরো ইরশাদ করেন: 

وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ وَذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

অর্থাৎ, যে আল্লাহ ও তার রসূলের অনুগত্য সহকারে চলবে, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন; যার নীচ হতে নদীসমূহ প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং এ মহা সাফল্য। (নিসাঃ ১৩)

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published.